আমরা ম্যানকাইন্ড অরগানাইজেশান

সিলেটের প্রতিবন্ধী গ্রাম বিশ্বনাথের আমতৈল!  

বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা সিলেট। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের ধনী দেশগুলোতে সিলেট অঞ্চলের মানুষের বসবাস। সিলেট জেলার একটি উপজেলা বিশ্বনাথ, যেখানের জনসাধারণের একটি বড় অংশ ইউরোপ আমেরিকায় বসবাস করেন। সেই বিশ্বনাথ উপজেলার একটি অবহেলিত, নিগৃহীত,  সুবিধা বঞ্চিত গ্রাম আমতৈলে কাজ করছে ম্যানকাইন্ড অরগানাইজেশান।    আমতৈল প্রাকৃতিক ভাবে সুন্দর মনোরম পরিবেশের গ্রাম। গ্রামের মানুষগুলো খুবই ভালো, তাঁরা অনেক অতিথিপরায়ণ। তিনটি ওয়ার্ড গঠিত এই গ্রামটি। বিশ্বনাথ উপজেলা প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হলেও আমতৈল গ্রামের মানুষের মধ্যে প্রবাসীদের সংখ্যা বিশ্বনাথের অন্যান্য এলাকার চেয়ে অনেক কম। এই গ্রামের বিশাল সংখ্যক মানুষ পঙ্গুত্বের অভিশাপ নিয়ে পৃথিবীতে জন্ম নেয়। আমতৈল গ্রামের  ৪০০ পরিবারের সদস্য জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী। অনেক পরিবারের বাবা ভাই মা বোন সবাই শারীরিক প্রতিবন্ধী। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির আর কোথাও এমন গ্রামের এমন গ্রামের নজীর নেই। প্রতিবন্ধী পরিবারগুলো খুবই দরিদ্র। তাঁরা এতই দরিদ্রসীমার নীচে বসবাস করে যে দিনের কোনো না কোনো বেলা বেশি পানি খেয়ে পেট ভরে রাখে। তাঁদের খাবার পানির ব্যাবস্থা নেই।  অনেকের স্যানিটাইজিং সুবিধা নেই।  খুবই প্রতিবন্ধী অনেক কে দেখেছি মাথায় চটের বস্তার ছাদ আর নিচের মাটির ঠান্ডায় সারাবছর শর্দি কাশিতে ভুগে ভুগে শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম দূর্বল করে ফেলে। এতে পঙ্গুত্বের সাথে যুদ্ধ করতে না পেরে মৃত্যুবরণ করে। ম্যানকাইন্ড অরগানাইজেশান যখন এই গ্রামের প্রতিবন্ধীদের নিয়ে সার্ভে করেছে তখন সার্ভের সময়ই  আকছারি বেগম নামের একটি শিশু কঠিন দারিদ্র্য ও অযত্ন অবহেলার কারণে  মৃত্যু বরণ করে।  অনেকের হাঁটার ওয়াকার নেই, হুইলচেয়ার নেই, চিকিৎসার সুবিধা নেই, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির জন্যে ভিটামিনের উৎস নেই, প্রয়োজনীয় জামা কাপড় জুতো কিছুই নেই, শারীরিক অবস্থা উন্নতির জন্যে কোনো ডে সেন্টারের ব্যাবস্থা নেই, পড়ালেখার সুযোগ নেই। ব্রিটেনের পত্রিকা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এই গ্রামটির মানুষদের নিয়ে নিউজ করলে তা ম্যানকাইন্ড অরগানাইজেশানের (Mankind Organisation) দৃষ্টিগোচর হয়।  অরগানাইজেশনটি সাথে সাথে স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে আমতৈল গ্রামে সার্ভে করে। সার্ভের রিপোর্ট হাতে পেয়ে সবাই স্তম্ভিত হয়ে যায়। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড যে রিপোর্ট করে তার থেকেও ভয়াবহ খবর ম্যানকাইন্ডের কাছে আসে। সার্ভের দায়িত্ব প্রাপ্তরা প্রত্যেক প্রতিবন্ধীদের নাম,  ঠিকানা, পরিবারের মোবাইল নাম্বারের সাথে সাথে তাঁদের ছবিও তুলে আনে।ছবিগুলো দেখে কঠিন হৃদয়ের মানুষ হলেও কাঁদতে বাধ্য। এতো দুঃখ কষ্ট অবহেলা নিয়ে সমাজের একটি অংশ বাঁচতে পারে তা অনেকের ধারণাতেও নেই।  ম্যানকাইন্ড অরগানাইজেশান  রমজান মাসে এই ৪০০ পরিবারের জন্যে ত্রাণের ব্যাবস্থা করে।   ম্যানকাইন্ড অরগানাইজেশান সিদ্ধান্ত নিয়েছে  আমতৈল গ্রামের মধ্যে প্রতিবন্ধী সবার বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করার জন্যে টিউবওয়েল বসানোর কাজ শুরু করবে । যারা রাতে মাটিতে থাকে তাদের জন্যে 'প্রতিবন্ধীদের সুবিধা' সমৃদ্ধ বিছানার ব্যাবস্থা করা হবে, যাদের ওয়াকার প্রয়োজন তারা ওয়াকার পাবে, প্রয়োজন অনুসারে হুইলচেয়ার পাবে, টয়লেট সুবিধার জন্যে হাইকমেডের ব্যাবস্থা হবে। একটি ডে সেন্টার অত্র এলাকায় প্রতিষ্ঠা করা হবে যাতে প্রতিবন্ধীরা পর্যাপ্ত থেরাপির সুযোগ পায়, তাদের জন্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করা হবে, নিউট্রশনিস্ট  ও ডাক্তারের ব্যাবস্থা থাকবে। যারা যারা উন্নতি করবে তাদের জন্যে কারিগরি শিক্ষা, কম্পিউটার শিক্ষার ব্যাবস্থা  থাকবে। কেউ ধর্মীয় শিক্ষায় দীক্ষিত  হতে চাইলে সেই ব্যাবস্থা করা হবে। ম্যানকাইন্ড অরগ্যানাইজেশন শুধু দু'একটি কাজ করেই সেখান থেকে চলে আসবে না। প্রতিবন্ধী মানুষদের সামাজিক ভাবে প্রতিষ্ঠা করার আপ্রাণ চেষ্টা করব। আমতৈল গ্রামে হবে পাইলট প্রজেক্ট হবে। পরবর্তীতে সমগ্র সিলেট সহ সারা বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী মানুষ, নির্যাতিত নারী, মায়েদের অস্ত্রোপচার বিহীন স্বাভাবিক গর্ভপাত, হতদরিদ্র মানুষদের সহায়তা, গরীব মেধাবীদের উচ্চ শিক্ষা সহ বিভিন্ন মানবিক কাজে ম্যানকাইন্ডঅরগানাইজেশান ধীরে ধীরে সম্পৃক্ত হবে। আমাদের ইচ্ছা অনেক। সমাজ থেকে অসহায়ত্ব দূর করার নেশায় আমরা আছি। সমাজের বিত্তশালীদের কাছে অনুরোধ আপনারা এই মহৎ কাজে আমাদের সাথে যুক্ত হোন। এই প্রতিবন্ধী পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফোটানোর চেয়ে বৃহৎ মানবিক  কাজ আর কী হতে পারে?   

আমরা ম্যানকাইন্ড অরগানাইজেশান

ম্যানকাইন্ড অরগানাইজেশান এমন একটি সংগঠন যারা বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, নির্যাতিত নারী, লিঙ্গ বৈষম্য নিয়ে কাজ করে। আমাদের উদ্দেশ্য সমাজের মানুষদের মধ্যে "প্রতিবন্ধীদেরও সমান অধিকার, তারাও সমাজের অংশ" এই ধারণা তৈরি করা। প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্যে সুস্থ পরিবেশ, চিকিৎসা, শিক্ষা ও তাদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করা। নির্যাতিতা নারী, যৌন নির্যাতনের শিকার নারীদের পাশে দাঁড়ানো,  তাদের ন্যায় বিচার পাওয়ায় সহযোগীতা এবং আইনি সহায়তা দেয়া ম্যানকাইন্ড অরগানাইজেশনের অন্যতম লক্ষ। আমাদের উদ্দেশ্য হলো যাদের সহায়তা করা হবে তারা যেনো পরবর্তীতে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়, অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে যেনো তাদের থাকা না লাগে। তাই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের জন্য ম্যানকাইন্ড অরগানাইজেশান কম্পিউটার শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যাবস্থা করার পরিকল্পনা নিয়েছে। 

অরগানাইজেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সমাজের নিগৃহীত বঞ্চিত প্রতিবন্ধীদের জন্যে কাজ করা। তাদের জীবনযাত্রা ও মানোন্নয়নে সহায়তা করা। স্বাভাবিক জীবন যাপনে সহায়তা করার জন্য প্রতিবন্ধীদের সরঞ্জাম সরবরাহ করবে ম্যানকাইন্ড অরগানাইজেশান। তারা যেনো আরো অন্যান্য মানুষদের মতো জীবন অতিবাহিত করতে পারে সেই ব্যাবস্থা সৃষ্টি করা হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকা নিশ্চিত করা, শিক্ষা এবং স্বনির্ভর করার জন্যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কাজ করা , যেখানে সম্ভব সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা করার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো ম্যানকাইন্ড অরগানাইজেশানের। আমরা প্রতিবন্ধী পরিবারগুলিকে পরিষ্কার জল, সেনেটারি, পুষ্টির পরামর্শ, ওষুধ, ফিজিওথেরাপি এবং শিক্ষা ইত্যাদি মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে সহায়তা করব।অসহায় দারিদ্র্য মানুষ, নির্যাতিতা বঞ্চিত নারীদের নিয়ে কাজ করাও ম্যানকাইন্ড অরগানাইজেশানের উদ্দেশ্যের অন্যতম।

আমাদের সামাজিক মিডিয়া অনুসরণ করুন